শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চাকা ফেটে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ: চালকসহ আহত বেশ কয়েকজন মুকসুদপুরে জ্বালানী তেল মজুদ করায় এক ব্যবসায়ীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুকসুদপুরে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা মুকসুদপুরে আইফোন ও টাকার লোভে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ মুকসুদপুরে নিলু মুন্সির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন মুকসুদপুরে গণহত্যা ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা সালথায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ালেন শামা ওবায়েদ মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ মুকসুদপুরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মোবাইল কোর্ট শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বল্লভদীতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
মাতৃ স্নেহ প্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থার ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

মাতৃ স্নেহ প্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থার ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

বাংলার নয়ন রিপোর্টঃ
“মায়ের মতো আপন কেহ নাই” এ গানটির সত্যতা আবারো প্রমান করলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মধ্য লোহাইড় গ্রামের গৃহবধূ নাজনিন। লোহাইড় গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তার বিয়ে হয় এবং তার কোল জুড়ে আসে একটি পূত্র সন্তান। শিশুটি একটু বড় হতেই প্রমাণ হয় সে শারীরিক প্রতিবন্ধি। প্রতিবন্ধি শিশু জন্ম দেয়ায় একমাত্র স্বামী ছাড়া পরিবারের অন্য সবাই নাজনিন ও তার সন্তানকে অবজ্ঞার চোখে দেখতো। বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়েও কোন উন্নতি হয়নি। ডাক্তাররা জানিয়ে দেয় সে কোনদিনই হাটতে পারবেনা। স্বামীর অনটনের সংসার হওয়া সত্বেও সন্তানের সুস্থতার আশায় নাজনিন ঢাকাস্থ মিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউটে গিয়ে তিন বছর প্রশিক্ষন গ্রহন করে। পরে তিনি ঢাকার আরো কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবন্ধি বিষয়ে প্রশিক্ষন শেষে ফিরে এসে নিজের সন্তানের পরিচর্যার পাশাপাশি বনগ্রামের মাটিয়া ব্রিজের পাশে দু-কক্ষের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২০ সালে মাত্র ৫জন শিশু নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে এখানে ৮১ জন। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধি শিশুকে সেবা দেয়া হচ্ছে সেখানে। নাজনিনের সাত বছরের শিশুটি এখন অন্যের সাহায্য ছাড়াই হাটতে পারে। অন্যান্য শিশুদের মায়ের সঙ্গে আলাপ করে জানাযায়, তাদের সন্তানদের মধ্যেও উন্নতির কিছুটা লক্ষন দেখা যাচ্ছে।
নাজনিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তার গরীব কৃষক স্বামী প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা দেয়। তাই দিয়েই কোন রকমে সংস্থার খরচ নির্বাহ করেন। শিশুদের ভালো সেবা দেয়ার জন্য অনেক আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, কিন্তু অর্থের অভাবে তা সংগ্রহ করতে পারছেননা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের রহমান রাশেদের কাছে আবেদন করলে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সে টাকা দিয়ে প্রশিক্ষনের জন্য কয়েকটি যন্ত্র কিনেছেন।
নাজনিন জানান, এতোগুলো শিশুকে একা সামাল দেয়া সম্ভব নয়। পারিশ্রমিক ছাড়াই আমার আপন দুই বোন তাকে সাহায্য করে। দানশীল ব্যক্তিরা, এলাকার জনগন এবং স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করলে এ সেবা কেন্দ্রটিকে তিনি আরো উন্নত করতে পারতেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved 2024 Banglarnayan
Design & Developed BY ThemesBazar.Com