রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চাকা ফেটে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ: চালকসহ আহত বেশ কয়েকজন মুকসুদপুরে জ্বালানী তেল মজুদ করায় এক ব্যবসায়ীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুকসুদপুরে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা মুকসুদপুরে আইফোন ও টাকার লোভে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ মুকসুদপুরে নিলু মুন্সির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন মুকসুদপুরে গণহত্যা ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা সালথায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ালেন শামা ওবায়েদ মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ মুকসুদপুরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মোবাইল কোর্ট শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বল্লভদীতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
জলিরপাড় ইউনিয়নে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

জলিরপাড় ইউনিয়নে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

বাংলার নয়ন সংবাদঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৭ নং জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঠিকমতো অফিস না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অফিস সময়ে উপজেলা পরিষদ ও বাজারের চায়ের দোকানে আড্ডায় মেতে উঠেন। জনগন সপ্তাহ পর সপ্তাহ ঘুরাঘুরি করেও চেয়ারম্যানকে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন। একটা স্বাক্ষর নিতে পদে পদে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

এমন অভিযোগ উপজেলার জলিপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই জনপ্রতিনিধি কারো কোন অভিযোগ বা কথার কোনও তোয়াক্কাও করেন না। যেমন খুশি তেমন করে পরিষদ চালাচ্ছেন। কোন জবাবদিহি না থাকায় সম্পূর্ণ একতরফা ভাবে নিজের মন মতো পরিষদ পরিচালনা করছেন। নির্ধারণ সময় না থাকায় চেয়ারম্যান মন চাইলে অফিস খুলেন। আবার মন চাইলে অফিস বন্ধ রাখেন। অফিস সময়ে জনসাধারণ এসে তালাবদ্ধ দেখেন পরিষদ।

ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে হাতাশ হয়ে বাড়ী ফিরেন সেবা প্রার্থীরা। সেবা প্রার্থীরা চেয়ারম্যানকে না পেয়ে নানা কটু কথা বলতেও শোনা গেছে। অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করে বাড়ি ফিরেন তারা। এতে করে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

অনেক নাগরিক সেবা নিতে দুর্গম থেকে ২০০-৩০০ টাকা খরচ করে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানদের না পেয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাগজপত্র স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে সচিবরা বাধ্য হয়ে গ্রাম পুলিশ বা অন্য লোক দিয়ে এসব চেয়ারম্যানদের বাড়ীতে বা বাজারে পাঠিয়ে দেন। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছে ইউনিয়নের সর্বসাধারণ।

পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট, বিধবার কার্ড, বয়স্ক ভাতার কার্ড, গর্ববতী নারীদের কার্ডের কোন স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে এ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে যথা সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বেশ কজন ভুক্তভোগী।

জলিরপাড় ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, কোন প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে আসলে চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায় না। একটি কাগজ স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। এর চেয়ে আর কি কষ্ট হতে পারে। তিনি একজন ইউপি চেয়ারম্যান সমগ্র ইউনিয়নেই তার জনগন। তিনি নিদৃস্ট করে তাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের কাগজে স্বাক্ষর ছাড়া অন্য কারো কাগজে স্বাক্ষর করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, তার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট করার জন্য ১ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। কিন্তু তিন দিন অপেক্ষা করার পরেও ইউপি চেয়ারম্যানকে পাননি। তিনি বলেন, আমি একজন গার্মেন্স কর্মী। আমার মতো অনেকেই এরকম হয়রানির শিকার হচ্ছে, এই অঞ্চল এমনিতেই অনউন্নত। দিন আনে দিন খায় এমন মানুষগুলি কতটা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে ভেবে দেখেন।

বর্তমানে হয়রানির অপর নাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি। মাসে মন চাইলে অফিসে আসেন। না চাইলে আসেননা। কোনও কাগজ পত্রে স্বাক্ষরের দরকার হলে এ চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায় না।

এভাবেই চলছে জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। নাগরিক সেবা এখন হাতের নাগালের বাহিরে। এই চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, খামখেয়ালিপনা আর মন মতো অফিস পরিচালনা করায় নাগরিক সেবা প্রার্থীরা রয়েছেন বিপাকে। এদের নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।

জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায় বলেন, আমি নিয়মিত অফিস করি। মাঝে মধ্যে হয়তো শারীরিক অসুস্থ থাকলে যেতে পারি না। তবে জনগন যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয় সজাগ রয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ইমাম রাজী টুলু বলেন, বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ পেল যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস দেন তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved 2024 Banglarnayan
Design & Developed BY ThemesBazar.Com