সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
মো.শহীদুল ইসলাম বেলায়েতঃ
সরকার দল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সিদ্ধান্তের কারনে এবারের মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে কোন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ফলে দলীয় নেতা কর্মীরা দ্বিধা দ্বন্দে ভুগছেন, কোন প্রার্থীর পক্ষে তারা ভোটের মাঠে নামবেন তা স্থির করতে হিমসিম খাচ্ছেন। অপরদিকে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন এই ভেবে যে, যেহেতু এ নির্বাচনে কোন দলীয় প্রার্থী নেই, তাই দলের কোন চাপও থাকবেনা, সেহেতু তারা অনেকদিন পরে নিজের ইচ্ছায় পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
সরকারী দল আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ খুশি হলেও দলের নেতা কর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। মুকসুদপুর উপজেলায় যে চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তারা সবাই কোননা কোনভাবে আওয়ামীলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা সকলেই বঙ্গবন্ধু এবং দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত এবং আস্থাশীল। দায়িত্বশীল কোন নেতা এ নির্বাচনে কারো পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিতে পারবেননা দলের এমন সিদ্ধান্ত থাকলেও তৃনমূল পর্যায়ের নেতাদের এ নির্বাচন থেকে দুরে থাকা সম্ভব নয়। কেননা যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তারা হয় দলের দায়িত্বশীল পদে আছেন, নয়তো দলের মধ্যে তাদের বেশ প্রভাব রয়েছে। ফলশ্রুতিতে উপজেলা কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি এমনকি ওয়ার্ড কমিটির নেতারা বিভক্ত হয়ে তাদের নিজের পছন্দের প্রার্থীর জন্য ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। দৃষ্টি প্রসারিত করে সমগ্র উপজেলায় নজর দিলে দেখা যাবে সব প্রার্থীর সাথেই গোপনে অথবা প্রকাশ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা কম বেশী রয়েছেন। একই দলের নেতা কর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন ভাগ হয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। উপজেলা কমিটির আলোচনা সভায় কয়েকজন নেতা তাদের অবস্থান কার পক্ষে তা স্পস্ট করে দেয়ায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতারাও সাহসী হয়ে নিজের ইচ্ছেমাফিক প্রার্থী বেছে নিয়েছেন। নি¤েœাস্থ নেতারা উপরোস্থ নেতাদের নির্দেশ মানছেননা এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ না মানার প্রবনতা সম্পর্কে নি¤œসারির এক নেতার সঙ্গে আলাপ করলে, তিনি জানান অতি উচ্চ স্তরের নেতারা যখন দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন প্রার্থীর জন্য মাঠে নামতে পারেন তবে নি¤œ স্তরের কোন নেতা বা কর্মী উপরের নেতাদের পছন্দের বাইরে গেলেতো কোন অপরাধ হতে পারেনা। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুরু থেকে যদি উপজেলা বা আরো উর্দ্ধের নেতারা আমাদের সুস্পস্ট দিকনির্দেশনা দিতেন তাহলে আমাদের মধ্যে এমন বিভক্তি হয়তো আসতোনা। বর্তমানে আওয়ামীলীগে যা দৃশ্যমান তাতে বিস্মিত হতেই হয়। উপজেলা কমিটির একটি অংশ একদিকে, অন্য একটি অংশ ভিন্ন দিকে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে পড়েছেন প্রকাশ্যে। অতি সন্তর্পনে কিছু নেতা যদি অন্য প্রার্থীদের জন্য মাঠে নামেন তাতেও দলের কিছু বলার বা করার থাকবে কিনা তা ভবিষ্যতে দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মতোবিরোধের সাথে শোনা যাচ্ছে পরস্পরের প্রতি বিষোদগার। কেউ বলছেন নির্বাচনের সুবাদে অর্থ আয়ের একটা সুযোগ খুজছেন কতিপয় সুযোগ সন্ধানী, আবার কেউ বলছেন, ব্যাক্তি আক্রোশের কারনে কেউকেউ ক্ষোভ মিটাচ্ছেন।
ব্যাক্তিগত বিরোধিতা কিংবা অর্থলিপ্সা অথবা অন্য যে কোন কারনেই হোক আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে যে বিভক্তি দৃশ্যমান তা মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের জন্য একটা অশনী সঙ্কেত হলে তা নীতি নির্ধারনী ফোরাম বিবেচনায় নিবেন কিনা তা তারাই ভেবে দেখবেন। স্বাভাবিক কর্মচোখে দেখা এই যে বিভক্তি তা যদি স্থায়ী হয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে দলের অবস্থান কতটুকু শক্ত থাকবে তা এখনই বলা না গেলেও স্মরণ রাখতে হবে, বিগত সংসদ নির্বাচনে মুকসুদপুর আওয়ামীলীগের ভিত অনেকখানি দুর্বল হয়ে পড়ার যে প্রমান মিলেছে তা মনে হয় সকলেই স্মীকার করে নিবেন। দলের এ বিভক্তি ভবিষ্যতে নিরসন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।