সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
বাংলার নয়ন সংবাদ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দিগনগর ইউনিয়নের বাগাটে একটি নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৩৮) তার পৈতৃক জমির উপর ‘রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে আসছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ তার নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্তরা হলেন, সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফজলুল হক শেখ ও আজিজল শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন।
শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় তারা নির্মাণাধীন ভবনের টাইলস ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৩ টন রড জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলম ১৯৮২ সালে সরোয়ার মুন্সীর নিকট থেকে ৬৪০৬ নং দলিল মূলে সাড়ে ছয় শতাংশ জমি দলিল করেন। পরবর্তিতে দুর্ণিতি করে বিআরএস রেকর্ডে ১৩ শতাংশ রেকর্ড করে নেয়। দলিলে স্পস্ট লেখা রয়েছে পশ্চিম তরফদিয়ে ভোগ দখল করবে এবং এখন পর্যন্ত সে ভাবেই ভোগ দখল করিতেছে। অথচও এখন আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট গল্প বানাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সম্প্রতি দিগনগর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামের ফজলু শেখ ও আজিজল শেখ সহ কিছু ব্যক্তি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে। তবে কর্তৃপক্ষ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাঁরা আরো বলেন, এলাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগ জনক। গ্রামীণ পর্যায়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বাঁধাগ্রস্ত হলে স্থানীয় বেকার যুবকরা কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা আশা করি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলু শেখের মোবাইল নাম্বারে কল দিলে তার ছেলে বলেন, এখানে এই দাগে আমরা জমি পাবো এজন্য কাজে বাঁধা দিয়েছি। চাঁদা দাবীর বিষয়টি সঠিক নয়।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত এবং এ নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলছে, তাই এ বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।”