বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
মুকসুদপুরে নার্সারি মালিকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ মুকসুদপুরে পৃথক ঘটনায় নারী-পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ মুকসুদপুরে বাসের চাপায় পথচারী নিহত মুকসুদপুরে একাধিক ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামি গ্রেফতার ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার, দেশে ফেরার পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন প্রেমের টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণীর মুকসুদপুরের হিন্দু প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুরে ভাসলো বৃদ্ধের মরদেহ গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা সোহেলের জামিন লাভ
ফেলনা নয়, পাটকাঠিই মুকসুদপুরের কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ

ফেলনা নয়, পাটকাঠিই মুকসুদপুরের কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ

বাংলার নয়ন সংবাদ

সোনালি আঁশের জন্য খ্যাত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা। এক সময় পাটকাঠি কৃষকদের বোঝা মনে হলেও এখন ফেলনা নয়, আয়ের উৎস। আগে জ্বালানি, ঘরের বেড়া, ছাউনি তৈরির পাটকাঠি এখন পাটের পাশাপাশি দেশ ও বিশ্ব বাজারে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। এখন কৃষক স্বপ্ন দেখেন সোনালি আঁশের সাথে রুপালি কাঠি বিক্রি করে লাভবান হওয়ার। এ বছর  উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলনের সাথে পাটকাঠির কদর বেড়েছে। পাট শুকিয়ে সোনালি আঁশ ঘরে তুলছেন, বিক্রিও করছেন ভালো দামে। অন্যদিকে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে বাড়ি আঙিনায় পালা দিয়ে রাখছেন চড়া দামে বিক্রির আশায়। যে দিকে দু চোখ যায় রুপালি কাঠি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যস্ত কৃষক। স্থানীয়রা জানায় এক সময় ৯০ ভাগ কৃষক মনে করতেন এটা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার ছাড়া কিছুই করা যায় না, তাই যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হতো। বিশ্ব বাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায়, পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির দামও ভালো পাওয়া যায়। অনেক কৃষক পাটের সঠিক মূল্যে না পেলেও পাটকাঠিতে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের পাট চাষি জাকির মোল্যা বলেন, কয়েক বছর আগে পাটকাঠি বাড়ির আঙিনায় পচে নষ্ট হতো। বর্তমানে  পাটকাঠি ব্যাপক চাহিদা তাই ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুশি।

পশারগাতী গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ফেলনা পাটকাঠি আগে কদর ছিলো না তাই ফেলে দিত এখন এটা সোনার হরিণ, যত সময় নিয়ে বিক্রি করা যাবে তত লাভবান হওয়া যায়।
মোঃ মামুন শেখ নামে এক ব্যক্তি জানায়, উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের চারকোলা মিল স্থাপন হয়েছে এখানে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বের করা হয়। সেই ছাই থেকে কার্বন পেপার, কম্পিউটারের প্রিন্টারের কালি, ফোটোকপি কালি, আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারি, প্রসাধনী পণ্য, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ , দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ, সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই সাথে ছাই থেকে বের হওয়া কার্বন বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। তাই দেশে ও বিদেশে বেড়েছে কাটকাঠির কদর।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যাবে কৃষকরা দামও ভালো পাবেন।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বলেন, পাট উৎপাদনে দেশের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ৯ম স্থানে রয়েছে জেলার মধ্যে এ উপজেলা বেশি পাট উৎপাদন হয় এবার পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিতে কৃষক লাভবান হবেন আশা করা যাচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved 2024 Banglarnayan
Design & Developed BY ThemesBazar.Com