শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
উপজেলা প্রতিনিধি, মুকসুদপুর
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে শেখ নাজিম উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসায় একাধিক উন্নয়নমূলক ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে—সকল শিক্ষার্থীর জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন, মসজিদের সংস্কার ও টিন পরিবর্তন, সীমানা প্রাচীরে কোরআন-হাদিস ও মনীষীদের বাণী লিখন, নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাতে আলোকসজ্জার জন্য হ্যালোজেন লাইট স্থাপন।
এছাড়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ, বয়স্কদের জন্য বিনামূল্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা কোর্স চালু, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী পিঠা উৎসবেরও আয়োজন করা হয়। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের খবর প্রচারিত হয়েছে বিবিসি বাংলা, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, মাছরাঙা টেলিভিশন, বাংলা টিভি ও বাংলাদেশ বেতার সহ বিভিন্ন মিডিয়ায়।
শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভর্তির প্রচারে মাইকিং, ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে মাদরাসা ক্যান্টিন। পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অগ্রগতি বিষয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক আলোচনা করা হয়।
এসব উদ্যোগের পাশাপাশি ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও এসেছে সাফল্য। দীর্ঘ ১৫ বছর পর শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ বছর মাদরাসার ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মাদরাসার অভিভাবক সদস্য হায়দার মৃধা বলেন, “সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মাদরাসার শিক্ষা ও বাহ্যিক পরিবেশে পরিবর্তন এনেছেন। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব মানুষ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকলে পরিবর্তন নিশ্চিত।”
শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব পরিবর্তন হয়েছে, তা আমার একার পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে এলাকাবাসীর সহযোগিতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও বাহ্যিক পরিবর্তনের জন্য অনেকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি, কেউ আমাকে ফিরিয়ে দেননি। আমি আশাবাদী, আগামীতে আরও পরিবর্তন আসবে।”
সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যোগ্য ও শিক্ষানুরাগী নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। তার মতো যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়।